নিজস্ব প্রতিবেদক :
দুই স্তরে সাজানো ভাস্কর্য। মুক্তিযুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নিচের অংশে ১৮ জন তরুণ শিক্ষার্থীর অবয়বে। নারী ও পুরুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকে তুলে ধরতে নিচের অংশে দুজন পুরুষ ও একজন নারীর অবয়ব। যুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বাঙালিদের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করতে রয়েছে দুজন পাহাড়ি বাঙালির অবয়ব।
বলছিলাম মুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়াকে নির্দেশ করে স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্যের কথা। তবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেও অযত্নে অবহেলায় বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে ভাস্কর্যটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিস্কার না করায় ভাস্কর্যের গায়ে শ্যাওলা ধরেছে। ফেলে রাখা খাবারের প্যাকেট ছাড়াও কাগজ এবং বস্তা-বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভাস্কর্যের পাশে ঘাসগুলোও ঝোপের আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় বিবর্ণ হয়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ভাস্কর্যটি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অর্ধশত বছর পার করলেও ছিলো না মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি সংবলিত কোনো ভাস্কর্য। অবশেষে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবরে সেই শূন্যতা পূরণ হয় ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে।
ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৮ ফুট। এরমধ্যে ওপরের স্তরে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট এবং নিচের স্তরের প্রতিটি অবয়বের উচ্চতা ৫ ফুট। লোহার অবকাঠামোর ওপর কংক্রিটের ঢালাইয়ে নির্মিত ভাস্কর্যের ওপরের অংশে লাল রং এবং নিচের অংশে সাদা রং ব্যবহার করা হয়েছে।
চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও ছিলো না মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ কোন স্মৃতিচিহ্ন। জয় বাংলা ভাস্কর্যের মাধ্যমে সেই শূন্যতা ঘুচে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভাস্কর্যের বিভিন্ন অংশে শ্যাওলা জমে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। বিষয়টি চোখে পড়লে গত ১৭ নভেম্বর আমরা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে ভাস্কর্যটি পরিষ্কার করি। ঐতিহ্যের এই স্মারকটি যেনো অযত্নে নষ্ট না হয় সেদিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ভাস্কর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান বলেন, জিনিস তদারকি না করলে সেটা বেশিদিন টিকে থাকে না। আর ভাস্কর্যটি যেহেতু চৌরাস্তার মাঝখানে সেক্ষেত্রে ধুলোবালির আস্তরণ তো সবসময়ই পড়ছে। সঠিক লোক দিয়ে এই স্থাপনার দেখভাল করানো দরকার। এজন্য কিছুটা বাজেট রাখতে পারে প্রশাসন। শুধু জয় বাংলা ভাস্কর্যই নয় অন্যান্য যেসব ভাস্কর্য আছে সেগুলোরও বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, আমরা কয়েকবার এটি পরিস্কারে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলাপও হয়েছে। কিন্তু তারা পরিস্কারের বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
বিজয়ের মাসেও বিবর্ণ রূপের বিষয়ে বলেন, ভাস্কর্যের সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা চারুকলার সঙ্গে আলাপ করেছি। কিন্তু তারা যে পরিমাণ ব্যয় দেখাচ্ছে তা অনেক বেশি।
Leave a Reply